ইরান স্বেচ্ছায় সেদেশের দু’টি পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির তেহরান সফরের দ্বিতীয় ও দিনে গতকাল (বুধবার) ইরান ও এই আন্তর্জাতিক সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে। পার্সটুডে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ নীবিড় আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যার ফলে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন আরো সহজ হয়।ইরান যে দু’টি পরমাণু স্থাপনায় আইএইএ’র পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে তার একটি ইস্পাহান প্রদেশের শাহরেজা শহরের কাছে এবং অন্যটি তেহরানের অদূরে অবস্থিত।

ইরানের এই সদিচ্ছা প্রদর্শনের মোকাবিলায় আইএইএ দুই পক্ষের মধ্যে এর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলিতে যেসব স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার বাইরে কোথাও পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আকবর সালেহি এবং আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএইএ’র সঙ্গে ইরানের এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ স্থায়ী প্রতিনিধি ডেভিড হল এ সমঝোতাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন। ভিয়েনায় জাতিসংঘের দপ্তরে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানোভ এ সমঝোতাকে প্রকৃত অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, চাপ প্রয়োগ নয় বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসির প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা আছে এবং তিনি যে সমঝোতায় পৌঁছাবেন তার প্রতি ইইউর সমর্থন থাকবে।

এদিকে ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়িদিনিজাদ বলেছেন, আইএইএ’র সঙ্গে ইরান যে সমঝোতায় পৌঁছেছে তা আমেরিকাকে হতাশ করেছে। অন্যদিকে আইএইএ’তে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই আন্তর্জাতিক সংস্থা যদি তেহরানের সঙ্গে অর্জিত সমঝোতার অতিরিক্ত কিছু আশা করে তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না।