জিততে হলে ৩২২ রান করতে হবে। আপতত দৃষ্টিতে বড় লক্ষ্যই মনে হতে পারে। কিন্তু এই লক্ষ্য তাড়া করে জেতা অসম্ভব নয়। টনটনের ছোট মাঠে এই বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছেন দুই বাংলাদেশি ওপেনার। অবশ্য দুজনেই সাজঘরে ফিরে গেছেন। তবে সাকিবের ব্যাটে এখন বাংলাদেশের ভরসা।

ম্যাচে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ করেছে ২০ ওভারে ১৩৮ রান, তিনি উইকেট হারিয়ে। সাকিব ৪৮ ও লিটন ০ রানে ব্যাট করছেন। সৌম্য ২৯ রান করে আউট হন। তামিম ৪৮ রান রান ও মুশফিক এক রান করে সাজঘরে ফেরেন।

এর আগে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ৩২১ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলার আশা টিকিয়ে রাখতে ম্যাচটা জিততে হবে মাশরাফিদের। আর তার জন্য চাই ৩২২ রান।

বিশ্বকাপে গত আসরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৩১৮ রান করে স্কটল্যান্ড। ওই ম্যাচে ছয় উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। চার উইকেটে ৩২২ করেন তামিমরা। জিততে হলে ওই রেকর্ড ভাঙতে হবে মাশরাফিদের।

শেই হোপ, লুইস আর হেটমেয়ার যেভাবে ব্যাট করছিলেন মনে হচ্ছিল ৩৫০ পার হয়ে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান। সেটা হলো না সাকিব, মুস্তাফিজ আর সাইফুদ্দিনের কারণে। নিয়মিত উইকেট নিয়ে ওই তিনজনই রানের লাগামটা টেনে ধরেন। মুস্তাফিজ আর সাইফুদ্দিন পেয়েছেন তিনটি করে উইকেট। সাকিব পেয়েছেন দুই উইকেট।

বাংলাদেশ সব সময় প্রিয় প্রতিপক্ষ শেই হোপের। আজও বাংলাদেশের বিপক্ষে হেসেছে হোপের ব্যাট। তবে শতক পুরো করতে পারেননি। ১২১ বলে ৯৬ করে আউট হন তিনি। হোপকে ফেরান মুস্তাফিজ। শেই হোপের সঙ্গে জুটি গড়লেন হেটমেয়ার। আর ঝড় তুললেন একটা। ২৬ বলে করে ফেললেন ৫০। ৪০তম ওভারে মুস্তাফিজ ফেরালেন হেটমেয়ারকে। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা হেটমেয়ার আউট হওয়ার পর নামলেন আন্দ্রে রাসেল। মুস্তাফিজের বলটা রাসেলের ব্যাট ছুঁয়ে মুশফিকের হাতে! তিন উইকেটে ২৪২ রান থেকে তা হয়ে গেল পাঁচ উইকেটে ২৪৩!

প্রথম ওভারটা মাশরাফি করলেন। বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল বলই ধরলেন না। এক রানও দিলেন না অধিনায়ক। গেইলকে শুরু থেকেই মনে হচ্ছিল অপ্রস্তুত। আর সেই সুযোগটাই নিলেন সাইফউদ্দিন। নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটা গেইলের ব্যাট ছুঁয়ে গেল মুশফিকের গ্লাভসে।

শূন্য রানে বিদায় নেন গেইল। খেলেছেন ১৩ বল। টনটনে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন মাশরাফি। একটু দেরি করেই বোলিংয়ে এসেছেন সাকিব আল হাসান। এসেই ভেঙেছেন লুইস আর হোপের জুটি। লুইসকে ৭০ রানে ফেরান তিনি। পরে পোরানকেও আউট করেন তিনি। ৩০ বলে ২৫ রানে আউট হন তিনি।

মাশরাফি আট ওভারে ৩৭ রান দিয়েছেন; তবে কোনো উইকেট পাননি। সাইফুদ্দিন ১০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। মুস্তাফিজ নয় ওভারে ৫৯ দিয়ে তিন উইকেট নেন। সাকিব আট ওভারে ৫৪ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন।