আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে সৃষ্ট যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রিয়াদ কথিত যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলন। সংগঠনটি বলেছে, সৌদি আরবের প্রস্তাবে নতুন কিছু নেই। পার্সটুডে।

আনসরুল্লাহ আন্দোলনের প্রধান আলোচক মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম বলেছেন, ইয়েমেনের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলো খুলে দেয়া দেশটির জনগণের মানবিক অধিকার; কাজেই এই বিষয়টিকে ‘চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

তবে তিনি একথাও বলেছেন, সৌদির চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য রিয়াদ, মাস্কাট এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে আনসারুল্লাহ।

সৌদি আরব গতকাল (সোমবার) এক ‘শান্তি প্রস্তাব’ উত্থাপন করেছে যাতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের নজরদারিতে ইয়েমেন জুড়ে যুদ্ধবিরতি পালিত হবে এবং দেশটির বিমান ও সমুদ্রবন্দরগুলো খুলে দেয়া হবে। প্রস্তাবে সানা বিমানবন্দর খুলে দেয়ার পাশাপাশি জ্বালানী ও খাদ্য আমদানির জন্য হুদায়দা সমুদ্রবন্দর খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দু’টি বন্দরই আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আলে সৌদ বলেছেন, হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা এ প্রস্তাবে সম্মত হওয়ামাত্র এটি কার্যকর হবে।

তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হুথি নেতারা বলছেন, একটি-দু’টি বন্দর খুলে দেয়া যথেষ্ট নয় বরং ইয়েমেনের ওপর থেকে জলপথ ও আকাশপথের সমস্ত অবরোধ তুলে নিতে হবে। গত ছয় বছর ধরে চলা ওই অবরোধের কারণে ইয়েমেনে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।

আব্দুস সালাম সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “সৌদি আরবকে ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি সকল অবরোধ তুলে নিতে হবে। কিন্তু গত এক বছর ধরে যেসব কথা বলা হচ্ছে শান্তি প্রস্তাবের নামে সেসব চর্বিত চর্বণ তুলে ধরার বিষয়টি কখনো মেনে নেয়া হবে না।”

২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে সৌদি আরব ও তার কয়েকটি মিত্র দেশ। এছাড়া দেশটির বিরুদ্ধে জল, স্থল ও আকাশ পথে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে আগ্রাসী জোট। এর ফলে দেশটিতে খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত সামরিক হামলা ও অবরোধের কারণে বহু মানুষ নিহত হয়েছে।