আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আগামীকাল বুধবার (৩১ মার্চ) থেকে গণপরিবহনের ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ছে। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) নিজ সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আগামীকাল বুধবার (৩১ মার্চ) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কাদের বলেন, কাল থেকে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে গাড়ি চালাতে হবে। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহবান জানান সেতুমন্ত্রী।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব অফিস ও কারখানায় অর্ধেক জনবল দ্বারা পরিচালনা এবং উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা, জনসমাগম সীমিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের যেকোনো কার্যক্রম বাইরে করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে ঘরোয়াভাবে কার্যক্রম পালনের আহ্বান জানান তিনি।

করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ২ সপ্তাহের ১৮ দফা নির্দেশনার পর ফের গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে বর্তমান ভাড়ার ৬০ ভাগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

সোমবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর মহাখালীর সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিআরটিএর সঙ্গে মালিক-শ্রমিকদের বৈঠকে বাস ও মিনিবাসে চালক, সহকারী ও যাত্রীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাসে রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

পাশাপাশি ১৮ দফায় আরও একটি নির্দেশনা হচ্ছে, করোনার ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকায় গণপরিবহন চলাচল শিথিল বা প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে হবে। তবে এ বিষয়টি ঠিক করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত বছর ৩১ মে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সরকার। এর আগে দীর্ঘদিন গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে।

তবে করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাসের সব সিটে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।