করোনাভাইরাসের প্রভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, শস্য দানা ও প্রাণীর রোগব্যাধি বাড়বে। আর এতে করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা। এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও। সময়টিভি।

রোববার (২১ মার্চ) রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির করা জরিপে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী আড়াই বিলিয়ন বা ২৫০ কোটির বেশি মানুষ কৃষিখাতের সঙ্গে জড়িত। এদের আবার বেশির ভাগেরই বাস স্বল্প আয় ও উন্নয়নশীল দেশে এবং এসব মানুষ তাদের জীবন মানোন্নয়নের জন্য এই কৃষির ওপরই বেশি নির্ভরশীল। কৃষির বাইরে এমন আর কোনো খাত নেই যে খাত এত বড় সুবিধা বা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক ও সংস্থা বলছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে প্রাণী ও খাদ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নষ্ট করতে হয়েছে। এ সময়ে সাব-সাহারান ও উত্তর আফ্রিকায় ক্ষতি হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। এর চেয়ে অবশ্য কিছুটা কম মাশুল দিতে হয়েছে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোকে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রাণী ও দানাদার খাদ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ২৯ বিলিয়ন ডলারের। একই সময়ে একই কারণে ৪৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির শিকার হয়েছে এশিয়া।

জাতিসংঘের পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এক বিলিয়ন মানুষ নতুন করে দরিদ্রসীমার নিচে নেমে যাবে। এবং এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন মানের এই অবনমন হবে শুধু করোনাভাইরাসের তাণ্ডের প্রভাব মোকাবিলা করতে না পারায়।