আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করা এবং এটিকে কার্যকর করার জন্য তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। ‘কোভিড-১৯ যুগে ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পার্সটুডে।

বোরেল তার বইয়ে লিখেছেন, পাঁচ বছর আগে ভিয়েনায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন এবং ইইউ’র তৎকালীন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন।

তিনি আরো লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওই সমঝোতায় পৌঁছাতে ‌১২ বছর সময় লাগে। এ অবস্থায় এত দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টার অর্জনটি যদি ব্যর্থ হয়ে যায় তবে অন্য কোনো কিছু দিয়েই সে ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।

এই সমঝোতা এমন একটি দলিল যাতে একশ’র বেশি পৃষ্ঠা রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি সংযুক্তি রয়েছে বলে জানান ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে সম্মত হয়।

জোসেপ বোরেল তার বইয়ে আরো লিখেছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৫টি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলেছে, ইরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মেনে চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে তার দেশকে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতা গ্রহণের পর সে প্রতিশ্রুতি পূরণে গড়িমসি করছেন। ২০১৮ সালে তার পূর্বসুরি ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই সমঝোতা থেকে বের করে নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক টানাপড়েন চলছে তখন জোসেপ বোরেলের বইটি প্রকাশিত হলো।