নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ কাজের মাধ্যমে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. খলিলুর ইসলাম নামে এক ঠিকাদার। মঙ্গলবার (২৫আগস্ট) দুদকে এ অভিযোগ দেন তিনি।

ঠিকাদার খলিলুরের অভিযোগ, আশরাফুল আলম কারাগারে থাকা বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীম সিন্ডিকেটের সদস্য। জি কে শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল আলমের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর তার দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যকলাপ আরও বেড়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রী সাবিনা আলমের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। নোটিশে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের নিজেদের, নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়।

সে বিষয়টি সামনে এনে দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগে ঠিকাদার খলিলুর ইসলাম বলেন, ‘আশরাফুল আলম প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন মহলকে ম্যানেজ করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা তদন্ত ব্যহত হবে বলে আমি আশঙ্কা করছি। তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে বহাল রেখে তদন্ত করলে সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ারও আশঙ্কা করছি।’

লিখিত অভিযোগে মো. খলিলুর ইসলাম আরও বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রকোশলী থেকে পদোন্নতি পাওয়ার কিছুদিন আগে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারকে প্রায় এক শ’ কোটি টাকার কাজ দিয়ে কমিশন তুলে নেন তিনি। ফান্ডে অর্থ না থাকায় সেই ঠিকাদাররা এখন পড়েছেন চরম বিপাকে।’ এছাড়া প্রতিটি প্রকল্পে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন বলেও অভিযোগ ঠিকাদার খলিলুরের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের মোবাইলে একাধিক ফোন করা হলে তিনি লাইন কেটে দেন।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান আশরাফুল আলম। তার আগে তিনি ওই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।