কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় রাতের আধারে সড়কের দুই পাশ থেকে ২৭টি আকাশ মনি গাছ কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে স্থানীয় লোকজনের বাঁধায় আরও ১১৪টি গাছ কর্তন পন্ড হয়েছে। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কর্তনকৃত গাছগুলো গননা শেষে থানায় প্রেরণ করেন লেংগুরা উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. আল আমিন। স্থানীয়রা জানায় কর্তনকৃত গাছগুলোর বাজার মূল্য হবে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা। উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের মোমেনের টিলা সংলগ্ন এলাকায় এ গাছগুলো কর্তন করা হয়। স্থানীয়রা জানায় এগুলো সরকারি সড়কের গাছ।

এদিকে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল রানা রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তাকে গাছগুলো গননা করে মামলা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। স্থানীয় লোকজন জানান, উমেদ আলী পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ চালুর কথা বলে গত শনিবার রাত থেকে গাছ কাটা শুরু করে। রাতেই ২৭টি গাছ কেটে ফেলে। কিন্তু নির্মানকৃত পল্লী বিদ্যুতের লাইনটি কর্তনকৃত গাছ থেকে প্রায় ২৫-৩০ ফুট দূরত্বে রয়েছে।

সকালে বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয় লোকজন ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা গাছ কর্তনে বাঁধা দেয় এবং ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করে। অভিযুক্ত উমেদ আলী জানান, কলমাকান্দা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মো. আনিছুল হক বিদ্যুতের সংযোগ চালুর জন্য ওই গাছ কাটার কথা বলেছিলেন। আমার রেকর্ডের জায়গা থেকেই গাছ কাটতে ছিলাম। কিন্তু স্থানীয় যুবলীগের সভাপতিসহ এলাকাবাসী তাতে বাঁধা দেয়। রাতের আধারে গাছ কাটার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম আনিছুল হক বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহেলা রানা জানান, সরকারি গাছ কর্তনের ব্যাপারে থানায় মামলা দেয়া হয়েছে। লেঙ্গুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. আল আমিন জানান, অবৈধভাবে সরকারি গাছ কর্তনের দায়ে আমি বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করব। কর্তনকৃত সমস্ত গাছ সরকারি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। কলমাকান্দা থানার ওসি মাজহারুল করিম জানান, এ ব্যাপারে কলমাকান্দা থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।