দেশে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। শনিবার (১০ এপ্রিল) রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু দেখেছে দেশের মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শনিবারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য থেকে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে দেশে করোনায় মৃত্যুর হার বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত মোট ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়। আর ৪ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল- এই ৭ দিনে মারা গেছেন ৪৪৮ জন।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরপর ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছিল। গত বছরের ৩০ জুন দিনে মৃতের সংখ্যা ৬৪ জনে ওঠে, যা ছিল ওই বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমতে থাকে, নভেম্বর ডিসেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও জানুয়ারি থেকে তা কমতে কমতে মার্চের শুরুতে তা ৫ জনেও নেমে এসেছিল।

কিন্তু এরপর আবার বাড়তে থাকে সংক্রমণ, সেই সঙ্গে মৃত্যুও। কয়েক দিনের মধ্যেই দৈনিক মৃত্যু ৫০ ছাড়িয়ে যায়।

১ এপ্রিল ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬ এপ্রিল আগের রেকর্ড ভেঙে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে এই সংখ্যা ৬০-এর নিচে আর নামেনি। ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের মৃত্যু ঘটলে নতুন রেকর্ড হয়, শনিবার তাও ছাড়িয়ে গেল।

এ নিয়ে সরকারি হিসাবে মহামারিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬১ জন।

এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশির বয়স ৬০ বছরের বেশি। শতকরা হিসাবে তা ৫৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, শতকরা হার ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ১৫ শতাংশ রোগী মারা গেছেন।

গত এক সপ্তাহে ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

এক সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৪৮ হাজার ৬৬০ জন। এই সংখ্যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুস্থও হয়েছে বেশি রোগী। সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।