রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এস এম শামীমের নেতৃত্বে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ৮০ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, ডলার ও টাকা উদ্ধার করেছে রমনা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত এন বি আর বিল্ডিং এর নিচ তলা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের সামনে থেকে আসামি মোঃ আলফাজউদ্দিন(৬১), সহকারী হিসাব রক্ষক, ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন কে ০৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্পসহ হাতে নাতে গ্রেফতার করে হয়।

আলফাজের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, তিনি এই জাল স্ট্যাম্প অধিক মুনাফার আশায় আনোয়ার নামে এক লোকের নিকট থেকে ক্রয় করেন। আলফাজ আরো জানায়, তিনি পূর্ব থেকেই স্ট্যাম্প বিক্রয় করতেন কিন্তু এই জাল স্ট্যাম্প বিক্রয় শুরু করেন আনোয়ারের মাধ্যমে। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার কিছুদিন পূর্বে আনোয়ারের সাথে সেগুনবাগিচায় চায়ের দোকানে তার প্রথম দেখা হয়। সেখানে আনোয়ার তাকে প্রস্তাব দেন জাল স্ট্যাম্প বিক্রয় করার। অধিক মুনাফার লোভে আলফাজ এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। আনোয়ারের অনুপস্থিতিতে তার ছেলে সবুজের কাছ থেকে স্ট্যাম্প নেয়ার জন্য বলেন আলফাজকে। এরপর থেকে আনোয়ার না থাকলে সবুজের কাছ থেকে স্ট্যাম্প নিতেন আলফাজ।

আলফাজকে সাথে নিয়ে এসি রমনা জোন এস, এম,শামীম তার সংগিয় ফোর্স এস আই মাসুম, এস আই সালমানসহ রাত ১২.৩০ ঘটিকায় আনোয়ার এবং সবুজের খোঁজে যাত্রাবাড়ির বিবির বাগিচা এলাকায় আনোয়ার ও সবুজের বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে আনোয়ার এবং সবুজকে না পাওয়া গেলেও মাস্টারমাইন্ড মাসুদের খবর পাওয়া যায়। যার কাছ থেকে এই অবৈধ স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি ক্রয় করতেন আনোয়ার ও সবুজ।

অনেক খোঁজাখুজির পর ভোরের দিকে মাসুদের বাসার খবর পান রমনা পুলিশ। যেটা যাত্রাবাড়ির বিবির বাগিচা এলাকাতেই অবস্থিত। অভিযান পরিচালিত হয় সেখানে এবং উদ্ধার হয় ৪ কোটি ৭১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, ডলার এবং টাকা। গ্রেফতার করা হয় মাসুদকে। এর পূর্বেও ডিবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার ও মামলা হয়েছে মাসুদের নামে এই একই অভিযোগে। প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি এই অবৈধ ব্যাবসার সাথে জড়িত। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে তিনি এই অবৈধ মাল সরবরাহ করেন। তিনিই এই এই অবৈধ ব্যবসার মাস্টারমাইন্ড। ডলার তৈরির সরঞ্জাম, জাল টাকা বানানোর কাগজ, জাল স্ট্যাম্প বানানোর সরঞ্জামও তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছে রমনা পুলিশ।

এ বিষয়ে রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস, এম, শামীম বলেন, “গতকাল সন্ধ্যায় আলফাজকে রমনা এলাকা থেকে এবং সারারাত অভিযানের পর সকালের দিকে মাস্টারমাইন্ড মাসুদকে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছি মোট ৪ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, ডলার, কোর্ট ফি ও টাকা। মামলা রেডি করা হচ্ছে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি, রাখব।সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দেয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবেনা।”